অস্তিত্ব
ঘন কালো নিকশ অন্ধকার
অথবা তীব্র আলোর ছটায়
দেখা যায় না কিচ্ছু।
জন্মান্ধের মতোন লাঠি ফেলে পথ খুঁজি।
সবাই গট গট করে দিব্যি হেঁটে যায়
আর আমি বসে ঘরের কোণে
শত্রুর সাথে-নিজের সাথে নিরন্তর যুদ্ধ করি,
লক্ষ কোটি তারার জ্বলা-নেভার খেলা দেখি।
খুঁজি সারা বাড়ি, সারা শহর, সারা আকাশ
চর্মচক্ষে দেখা যায় যদি তার আকার অবয়ব।
যদি শোনা যায় মাত্র একটি শব্দ ‘আব্বু’
যত দ্রুত বা ক্ষীণ কণ্ঠেই হোক।
তোমার ধীর-স্থির হাঁটা-চলা, কোলে বসে খাওয়া
রিক্সায় বা হোন্ডায় কলেজে যাওয়া
টিভি সিরিয়াল দেখা, মোবাইল নিয়ে খেলা
সবকিছু যেন বইয়ের পাতায় মোড়ানো।
উল্টিয়ে পাল্টিয়ে পড়ে ফেলি সব।
ইতিহাস হয়ে সাজানো আছে মনের ভেতর।
কে বলে তুমি নাই?
এইতো তোমার পড়ার সাজানো টেবিল
বই-খাতা, কলমদানী, ভ্যানিটি ব্যাগ, মেকাপ বক্স
সবকিছু সাক্ষ্য দেয় তোমার অস্তিত্বের।
সকল প্রাঙ্গণে তোমার পদচিহ্ন
সকল গৃহবস্তুতে তোমার শীর্ণ হাতের ছোঁয়া।
তুমি আমার অস্তিত্ব-আমার শরীর
দিনে-রাতে তোমায় অনুভব করি।
মেমোরী হাউজ, বগুড়া ১৯/১০/২০২১ খ্রিস্টাব্দ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন